27 March 2014

ভাইয়া, পথে ঘাটে সুন্দরী-রূপসী নারীদের দেখে আকর্ষণ হয়, তাইনা?

​​আচ্ছা ভাইয়া, আসুন একটুখানি কথা বলি। পথে ঘাটে সুন্দরী-রূপসী নারীদের দেখে আকর্ষণ হয়, তাইনা? আপনি অবিবাহিত, ঠিক দ্রুত তেমন সম্ভাবনাও নেই বিয়ে হবার, তাই মন আরো উদাস হয়? পথে/স্কুলে/কলেজে/ভার্সিটিতে/ক্লাসরুমে আকর্ষণীয়া মেয়েদের দেখে বুকে দীর্ঘশ্বাস হয়? আশেপাশে সবাই যখন জোড়া বেঁধে ঘুরে, ফোনে ইটিশ-পিটিশ করে তখন নিজেকে একলা একলা লাগে?

জানেন তো, যে জিনিস সহজে পাওয়া যায়, তার ফলাফল কেমন হয়? 'সস্তার তিন অবস্থা' পড়েননি? যে মেয়েটাকে সহজেই আপনি পাবেন, সে কিন্তু আপনার হাত থেকেও *সহজেই* অন্য কারো হাতে চলে যাবে। যে মেয়েটার সৌন্দর্য আপনি দেখতে পাচ্ছেন, দেখে মুগ্ধও হচ্ছেন, সে তার সৌন্দর্য আরো অনেক লোকের কাছেই দেখিয়ে বেড়াবে। মানুষ এমনই, তাকে জোর করে বদলানো যায় না, চাপ প্রয়োগে মানুষ আরো বেশি প্রতিক্রিয়াশীল হয়। এই প্রক্রিয়াতেও আপনি তাকে 'ঠিক' করতে পারবেন না।

কী পারবেন জানেন? নিজেকে ঠিক করতে। আল্লাহকে ভয় করার সুযোগ আছে, তাওবা করলে তিনি মাফ করবেন আপনাকে। বিনিময়ে অল্প কয়েকদিনের দুনিয়াতে তো শান্তি আছেই, আখিরাতে মুক্তিও আছে।

এই সমাজেই অজস্র বোন আছে, যারা তাদেরকে পবিত্র রেখেছে, যারা তাদের শরীর ও মনকে এমন মানুষের জন্যই রেখে দিয়েছে যে তাদেরকে পূর্ণ অধিকার দিয়ে ঘরের কর্ত্রী করে, জীবনের সঙ্গিনী করে নিয়ে আসবে। আপনি কি এমন দ্বীনদার কোন নারীকে পেতে চান না? আপনি কি চান না আপনার সন্তানের মা এমন কেউ হোক, যিনি পবিত্র চরিত্রের, যিনি সন্তানদেরকেও তার মা ও তার বাবার মতন চরিত্রকে মুগ্ধ হয়ে গ্রহণ করার শিক্ষা দিবেন?

আসুন ভাই, সস্তা না হই, সস্তা এইসব তুচ্ছ/নোংরা/জঘন্য সংস্কৃতিতে হারিয়ে না যাই। নিজেকে যোগ্য করুন, দেখবেন আল্লাহ আপনার জন্য কোথা থেকে যে এক অসাধারণ নারীকে হাজির করেছেন যার দ্বীনদারী দেখে আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন।

আপনার কিন্তু বাজারের সব চকচকে পোশাক দেখে লাভ নেই, যে পোশাক আপনার দেহের সাথে সাইজে ভালো হয়, ফিটিং হয়-- সেটাই আপনি কিনে নেন। তেমনি, সস্তা সব পণ্যের মতন নারীদের দিকে ভ্রূক্ষেপ করবেন না, বরং এমন এক মানুষের জন্যই অপেক্ষা করুন যে আপনার জীবনের জন্য, আপনার পারিবারিক জীবনের জন্য অসাধারণ হবে, আপনারা দু'জনে মিলে জান্নাতে যাওয়ার পথে জ্ঞানার্জন ও আমল করতে পারবেন।

24 March 2014

যদি মনে করেন বিয়ের আগে প্রস্তুতি দরকার নেই তবে যেসব ক্ষতি হতে পারে

​​
​​​বিয়ের আগে সত্যিই অনেক প্রস্তুতি দরকার। যারা মনে করেন প্রস্তুতি ছাড়াই বিয়ে করলে সমস্যা নেই,তারা এখনকার সময়ে চারিদিকে দাম্পত্য কলহ এবং বিবাহবিচ্ছেদের পরিমাণ দেখলেই বুঝতে পারবেন মানুষে মানুষে অমিলগুলো এখন সংসারে সহাবস্থানে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যাই হোক, বিয়ের মূল প্রস্তুতিটা মানসিক, তবে এর সাথে আরো অনেক কিছুই চলে আসে। আপনাকে ফোকাসড হতে হবে। আবেগ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আপনাকে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, আপনি কি আসলেই আপনার জীবনটা আরেকজনের সাথে শেয়ার করতে প্রস্তুত?

বিয়েতে যদি মনে করেন আরেকজন কেবল আপনাকে 'সার্ভিস' দিবে, তাহলে আপনি সম্পূর্ণ ভুলের উপরে আছেন যা আপনাকে অশান্তি এনে দিবে নিশ্চিতভাবে। ঠিক  উল্টোটা যদি হয়, আপনি যদি আরেকজনকে কী কী 'কর্তব্য' পালন করে দিবেন তা চিন্তা করেন, এবং সেই কর্তব্য সম্পর্কে ভাবতে ভাবতে যখন নিজের অভ্যাসগুলো নিয়ে ভাবতে পারবেন -- তখন আপনি কিছুটা বুঝতে পারবেন আপনার এখনকার আপনি মানুষটার সীমাবদ্ধতাটুকু। এই চিন্তাটুকু করে যদি তেমন কিছুই বের করতে না পারেন, নিশ্চিত থাকুন আপনি এখনও তেমন কিছুই বুঝেননি আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে।

বিয়ের মাঝে আল্লাহ অনেক প্রশান্তি, আনন্দ ও দয়া রেখেছেন। কিন্তু একজন মানুষ কিন্তু মূলত দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে সংসার শুরু করে। একজন পুরুষ যখন বিয়ে করে, তখন সে তার স্ত্রী হওয়া নারীটির বাকি জীবনের সম্পূর্ণটার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়ে নেয়। চিন্তা করে দেখেছেন তো আপনি কত বিশাল দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন? একইভাবে, একজন নারী যখন তার স্বামীর সংসারে যান, তিনি তার স্বামীর সংসারটির কর্ত্রী হয়ে তিনি সেই স্বামীর পরম বন্ধু হয়ে তার দেখাশোনা এবং মা হয়ে তার সংসারের সকল সন্তানদের জন্মদান এবং তাদের বড় করার মতন কিছু বিষয় কাঁধে নিয়ে ফেলেন। বিয়ের মূহুর্তটির পর থেকে এই ধাপগুলোসহ আরো অজস্র বিষয় অবধারিতভাবেই একজন পুরুষ বা নারীর কাঁধে চেপে বসে।

তাই, বিয়ে নিঃসন্দেহে অবহেলা বা হালকা করে নেয়ার বিষয় নয়। আপনার জীবনের সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তগুলোর একটি এই বিয়ে। সুতরাং, বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে আবেগের চেয়ে একটু মাথা ঠান্ডা করে নিজের যোগ্যতা নিয়ে ভাবুন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ আপনাকে অনেক গুণ দিয়েছেন এবং অবশ্যই আপনি আরো কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে আছেন। কী করলে আপনি নিজেকে উন্নত করতে পারবেন, কীভাবে সেই সংসার জীবনে শান্তি আনতে পারবেন সেই চিন্তা করে কাজ করতে থাকুন।

তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বিয়ে করবেন যাকে, তার কিছু স্বভাব এবং আচার-আচরণ আছে, যা আপনার চেয়ে ভিন্ন হবে। তার কথাবার্তার বিষয় এবং ভালোলাগার বিষয়েও প্রচুর অমিল থাকবেই। তার পরিবার থাকবে, সেই পরিবারের প্রতি তার প্রচুর কর্তব্য থাকবে, আবেগ এবং জটিলতা থাকবে। যেই আপনি কথাবার্তা ভিন্ন হওয়ার কারণে অনেক বন্ধুদেরকে এড়িয়ে চলেছেন, সেই আপনি কি প্রায় পুরো অচেনা মানুষটির গোটা জীবনটাকে আপনি মেনে নিয়ে সম্ভাব্য কর্তব্যটুকু করতে মানসিকভাবে প্রস্তুত তো?

এই প্রস্তুতিগুলো না থাকলে দেখা যাবে আপনি হয়ত এমন কিছু আচরণ করে বসবেন যাতে আপনার সেই স্বামী বা স্ত্রী আঘাতপ্রাপ্ত হবেন। তার সেই প্রতিক্রিয়া থেকেই হতে পারে আপনার সংসারের অশান্তির শুরু। তাই ((যদি বিয়ে করতেই চান)) ব্যক্তিগত চরিত্র, চিন্তার ধরণ, সহিষ্ণুতা, সহমর্মীতা, সচেতনতা, পরোপকারিতা, দায়িত্ববোধ নামক গুণগুলো যথাসম্ভব অর্জনে নিজেকে নিয়োজিত রাখুন!!

আল্লাহ আমাদেরকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলে দেন না যা আমাদের সমাধানের অতীত। এই বিষয়গুলোও অসম্ভব নয়। তবে, যদি কল্যাণ চান, যদি সুন্দর একটি দাম্পত্য জীবন আশা করেন, যদি সুখী পরিবার কামনা করেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই এইসব কিছু বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। একটুখানি ভাবুন, নিজেকে নিয়ে কাজ করুন, প্রস্তুত হোন -- ইনশা আল্লাহ আপনি কল্যাণপ্রাপ্ত হবেন।

সবচেয়ে বড় কথা, আমরা কিছুই করতে পারিনা যদি আল্লাহ সাহায্য না করেন, যদি আল্লাহ কবুল না করেন। তাই, আল্লাহর কাছে খুব বেশি করে দোয়া করুন। দোয়া একটি ইবাদাত, দোয়া ঈমানদারদের জন্য এক অব্যর্থ অস্ত্র যা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেয়। সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ আমাদের উত্তম স্বামী/স্ত্রী হবার এবং পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ আমাদেরকে সুন্দর একটি সমাজ গঠনের তাওফিক দান করুন।

19 March 2014

বিয়ের পরে দেখা গেলো মেয়ে পুরাই অন্যরকম!

​- ভাই, বিয়ে করবেন শুনতেছি...

- হুমম।

- ভাই, আপনার ভয় লাগে না? আপনি যেমন চাইসেন, মেয়ে যদি তার পুরা উলটা হয়...

- ভয় দেখাইতে চাচ্ছ?

- না। বলতেসি আরকি। অনেক মানুষই নাকি যা দেখে বিয়ে করে, পরে নাকি দেখে অন্যরকম।

- আমি কি নিজের উপরে ভরসা করে স্ত্রী খুঁজবো?

- ভরসা আল্লাহর উপরে কে না করে?

- হয়ত সবাই করে। কিন্তু তোমার অন্তরের খবর তুমিই জানবা।

- ঠিকাছে ভাই, বুঝায় বলেন কেমনে আত্মবিশ্বাস পাইতেসেন।

- দেখো ভাই, সূরা ফুরকানে শেখা সেই দোয়াটা (রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াযিনা ওয়া যুররিইয়্যাতিনা কুররাতা আ'ইয়ুনিন ওয়া জা'আলনা লিল মুত্তাকি'না ইমামা) আমি নিয়মিত পড়ি আর অন্তরেও অনুভব করি। অর্থাৎ,আমি একটা "কুররাতুল আ'ইন" আমার জীবনসঙ্গী চাই। এর মানে কিন্তু এমন না সুন্দরী, রূপসী, বংশীয়া, ডিগ্রিধারী...  এর মানে এমন কিছু যে মানুষটার উপস্থিতি আমার চোখ শীতল করবে, অন্তরকে শান্তিতে ভরিয়ে দিবে। আর আমিও তার যোগ্য হতে নিজেকে "'মুত্তাকিনদের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত" করে নিতে আল্লাহর কাছে দোয়া করছি একই দোয়ায়। ছোটখাটো কীসের মাঝে আল্লাহ শান্তি মিলিয়ে দিবেন, সেইসবের মালিক তো আমি না। অন্তরের মালিক তিনি। দুনিয়ার সকল সম্পদের মালিকও তিনি।

- ভাই, আপনার চেনাজানা তো কেউ নাই, এমন মেয়ে তাহলে কোথা থেকে পাবেন?

- আল্লাহর কাছে দোয়া করতেসি। দোয়া কেন বিফলে যাবে? এটা কোনদিন হতে পারে না। আমি কী করেছি, কী ভাবছি সবই আল্লাহ জানেন। আমার দায়িত্ব আমি তার হাতেই তুলে দিয়েছি, তিনিই আমার উত্তম অভিভাবক। আমি আমার কাজটুকু করবো। দেখার সময় দ্বীনদার মেয়ে খুঁজবো।  ইনশা আল্লাহ এটা ব্যাপার হবে না। আল্লাহর উপরে ভরসা করে সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করলে কখনো কেউ বিফল হয় না।

- জাযাকাল্লাহ খাইর ভাই। অনেক কিছু শিখলাম। সাহস পেলাম।

12 March 2014

হারাম প্রেম বনাম হালাল বিয়ে

যারা হারাম সম্পর্ক (প্রেম) করে, তাদের মাঝে সারাক্ষণ একটা চোর-চোর ভাব থাকে। তারা অচেনা ছেলের/মেয়ের সাথে আজেবাজে সময়ে বেড়ায়, রিকসায় চড়ে যা-তা করে, ফাস্টফুডে ঢুকে লুকিয়ে থাকে, ফোনে আরো অনেকের সাথে আলাপ করে। কেউ সন্দেহ করে কিছু বললেই তাদের টেনশন হয়। প্রেমিক বা প্রেমিকার নামে কেউ কুৎসা বললে তাদের বিশ্বাস হয়ে যায় কেননা তারা নিজেরাই তো একটা অন্যায় ও অশ্লীল আচরণ করছে। এভাবে সন্দেহ আর অশান্তি তাদের মনে গেঁড়ে যায় একদম। প্রেম যারা করে তাদের চরিত্রে তাই অস্থিরতা বেশি হয়, দৃঢ়তার অভাব হয়।

যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় বিয়ে করে, তারা জানে প্রিয় মানুষটা সমস্ত দুনিয়ার ফিতনা থেকে বেঁচে থাকে, তার কাছে ফিরে তার সমস্ত আবেগ ভাগাভাগি করতে। তাদের প্রতিটি বাক্য আর খুনসুঁটি তাদের আত্মবিশ্বাস জাগায়। তাদের দু'জনার উপস্থিতিতে আনন্দ ভাগ করে নেয়ার সময়গুলোতে তারা জানে, এই মূহুর্তগুলো ইবাদাতের সমতূল্য কেননা তারা অন্যায় সমস্ত পথ থেকে দূরে থেকে আল্লাহর হালাল করে দেয়া উপায়ে আনন্দ উপভোগ করছেন...

তাই, বিবাহপূর্ব প্রেমকে না বলুন। প্রেম থেকে দূরে থাকুন। নিজের চরিত্রকে সংরক্ষণ করুন। আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় বিয়ে করার চেষ্টা করুন। যদি বিয়ের সম্ভাবনা দেখতে না পান খুব শীঘ্রই, তবে রোজা রাখুন এবং আল্লাহর কাছে প্রচুর দোয়া করুন।আল্লাহ একদিন আপনার জন্য পথ খুলে দেবেন ইনশা আল্লাহ, সহজ করে দিবেন আপনার পথ। নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন চান, তখনই বান্দাকে তার প্রিয় উপহারটি দান করেন। যে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় কেবলই তার কাছে চায়, আল্লাহ তাকে দান করেন, শ্রেষ্ঠতম উপহারটি তাকে দান করেন। আল্লাহ আমাদের মুসলিম ভাইবোনদের রহম করুন।

8 March 2014

অবস্থানে ছোট মানুষকে সম্মান করা একটা বড় গুণ

অবস্থানে ছোট মানুষকে সম্মান করা একটা বিশাল বড় গুণ। হতে পারে আপনি আপনার সামনে থাকা মানুষটির থেকে উন্নত-- জ্ঞানে, গুণে, সম্পদে, রূপে, বংশমর্যাদায়। কিন্তু প্রতিটি মানুষই একটা প্রাণ, তিনিও আল্লাহর বান্দা, তিনিও হয়ত আপনার মতই চেষ্টা করছেন কষ্ট করে বেঁচে থাকার জীবিকার্জনে আর আল্লাহর পথে এগিয়ে যেতে।

হতে পারে একটা মানুষের সামাজিক অবস্থান তেমন ভালো নয়, অথবা তার বুদ্ধি হয়ত বেশি নয়; কিন্তু তার হৃদয়টাই কিন্তু আল্লাহর কাছে বিবেচ্য বিষয়। আমরা যদি কাউকে অপমান করি, যদি কাউকে ছোট করি, তাহলে তিনি হৃদয়ে কষ্ট পেতে পারেন। কাউকে অকারণ আঘাত দেয়া থেকে সাবধান হওয়া উচিত আমাদের...

ধরেন একটা রিকসাওয়ালা কিংবা মজুর, তিনি কাজটা হয়ত বড় কিছু করছেন না, কিন্তু তার একটা আত্মমর্যাদাবোধ আছে। সেই বোধকে আমাদের আহত করা উচিত নয়... একজন মানুষকে সম্মান করবো আমরা যতক্ষণ তিনি কারো ক্ষতি না করছেন, অন্যায় না করছেন। নীতিহীন, অত্যাচারী, খারাপ লোকের প্রতি নিজের ভেতর থেকে ভালো অনুভব করা কিন্তু আবার পথভ্রষ্টতার লক্ষণ...

আমরা যদি মানুষকে রহম না করি, আল্লাহর কাছে কেমন করে রহম পাওয়ার আশা করতে পারি? যারা অন্য আরেকজন মানুষের প্রতি দয়া দেখায়, আল্লাহ তাদের দয়া দেখান। 

আমাদের অন্যদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মীতা প্রকাশের গুণটি রপ্ত করার চেষ্টা করা উচিত। আমাদের ব্যক্তিগত আর পারিবারিক জীবন সুন্দর হবে।

​পবিত্রতা কি শুধুই শরীরের?

​পবিত্রতা কি শুধুই শরীরের? আল্লাহর নির্দেশ মানবেন বলে হয়ত কোন নারীকে/পুরুষকে ছুঁয়ে দেখা দূরে থাক, কথাবার্তাও এড়িয়ে গিয়েছেন আপনি... কিন্তু অনলাইনে অর্থাৎ ব্লগে, ফেসবুকে কমেন্টিং, চ্যাটিং করে আপনি যে কথাগুলো বলছেন অচেনা অজানা গাইর মাহরাম পুরুষ/নারীদের সাথে তা কি আপনার মনের পবিত্রতাকে টিকিয়ে রাখছে? প্রশ্নগুলো নিজেকে করুন...

আপনার মনের কিছু আবেগ আছে, কিছু চাওয়া আছে যা হয়ত জমিয়ে রেখেছিলেন ছোটবেলা থেকে, ফেসবুকে এসে তা অনেক ছেলেমেয়ের মাঝে উজাড় করে দিলেন... আপনি কি সেই অনুভূতিগুলোকে আর ফিল করতে পারবেন? তার চেয়ে বড় কথা, মনের পবিত্রতার কথা কি ভেবেছেন কখনো? যে আপনার চোখের সামনে গাইর মাহরাম পুরুষ/নারী বসে থেকে অন্তরঙ্গ আলাপের সাহস করে নাই, সে আপনি অবলীলায় আপনার অনেক ব্যক্তিগত কথা ও আবেগ ভাগাভাগি করছেন এমন কারো সাথে যাকে আপনি একদমই চেনেন না... আপনার স্ত্রী/স্বামী হিসেবে যিনি আসবেন, তিনি কি আপনার এইসব কমেন্টিং/চ্যাটিং পছন্দ করবেন? সবচেয়ে বড় কথা, এই কথাগুলো সবার কাছে প্রকাশিত হওয়াকে কি আপনি পছন্দ করবেন? যদি না করেন, তাহলে কিন্তু তা গুনাহের পর্যায়ে পড়বে। আসুন, ক্ষতির মুখে পড়ার আগেই অনুশোচনা করে সতর্ক হই।

হে আমার মুসলিম ভাই/বোন, একটু সচেতন হোন। আল্লাহর দেয়া নির্দেশগুলো কিন্তু আমাদেরকে হালকা করার জন্য। আমরা ভুল করে অকারণ যুলুম যেন নিজেদের না করি, তাই আমাদেরকে কিছু নির্দেশ ও আদেশ দেয়া রয়েছে। নিঃসন্দেহে তা আমাদের জন্য কল্যাণের। তাই, আসুন আমরা ভুল করে হলেও এমন কাজ না করি যা আমাদের অমূল্য সম্পদ - শরীর ও মনের পবিত্রতাকে নষ্ট করবে... আল্লাহ আমাদেরকে পবিত্র জীবন দান করুন। আমিন।

7 March 2014

অনেকেই সুখী তা তো জানেনই, আর আপনি?

​​
​আপনার জীবনটা আর কারো মতন না। ফেসবুকে প্রচুর বিয়ের পোস্ট দেখে, বিবাহিত ভাই-বোনদের দাম্পত্য সুখের প্রদর্শনী দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। সবার জীবনেই অজস্র সমস্যা, কারও সমস্যা লোকে দেখতে পায়, অন্যদেরগুলো পায় না। তাছাড়া সত্যিকারের আনন্দ যাদের হৃদয়ে, তারা কখনো লোককে দেখাতে যায় না, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া করে আর লোকের কল্যাণ কামনাতেই তাদের সময় কেটে যায়। মনে রাখবেন, আল্লাহ আপনার যে জীবনটা দিয়েছেন, তার নিয়ামতগুলো, তার জটিলতাগুলো একান্তই আপনার, খুব কম মানুষের জীবনের সাথে তার হুবহু বা অর্ধেক মিল পাবেন। তাই অনুরোধ রইলো, অন্যদের জীবন দেখে, সমস্যা ও তার সমাধান দেখে বিভ্রান্ত হবেন না, সংশয়ে পড়বেন না। আদেশ-উপদেশ-নির্দেশ কেবলমাত্র আল্লাহ ও তার রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছ থেকেই নিতে হয়। আর সেটা নিজ জীবনে প্রয়োগ করতে হয়।

নিশ্চিত থাকুন, আপনার প্রয়োজনীয় কোনকিছুর কিছুমাত্র কম আপনাকে দেয়া হয়নি। আল্লাহর একটিমাত্র নিয়ামাতের বিনিময় আমাদের গোটাজীবন পরিপূর্ণ ঈমানের সাথে পার করলেও হবে না। আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ার প্রতি সন্দেহ ও অভিমানের দুঃসাহস এলে নিজেকেই বুঝিয়ে শান্ত করুন, নিজেকে কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে তৈরি করুন। দোয়া করুন, কেননা দোয়া এক অব্যর্থ অস্ত্র, একটি ইবাদাত, দোয়ায় ভাগ্য ফিরায়।

আল্লাহর আদেশ, রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ জানতে পারলে সাথে সাথে মানতে ইচ্ছা করলেও যদি কিছু পথ কঠিন মনে হয় -- সেই আল্লাহর কাছে হাত পেতে কাঁদুন, যিনি এই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে রিযিক দান করে তাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন, যিনি মুসার (আলাইহিস সালাম) সামনে সাগরের মাঝ দিয়ে পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন, যিনি ইউনুসকে (আলাইহিস সালাম) মাঝের পেটে বাঁচিয়ে রেখে আবার তাকে তীরে তুলে দিয়েছিলেন, যিনি ইব্রাহিমকে (আলাইহিস সালাম) আগুনের লেলিহান শিখার মাঝে নিক্ষেপ করার পরেও তাকে শান্তিময় বাগান তৈরি করে দিয়েছিলেন, যিনি ইব্রাহিম খলীলুল্লাহকে বার্ধক্য এসে পড়ার পরেও ইসমাঈল ও ইসহাকের মতন দু'জন সন্তান দান করেছিলেন, যিনি যাকারিয়্যাহ আলাইহিস সালামকে অনেক বয়সকালে ইয়াহইয়া আলাইহিস সালামের মতন সুযোগ্য নাবী সন্তান হিসেবে দিয়েছিলেন।

আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই যার কাছে সাহায্য চাইতে পারি, আল্লাহ ছাড়া কেউ নেই যে আমাদেরকে কিছু দিতে পারেন। সমস্ত কল্যানের মালিক আল্লাহ, সমস্ত ভালোবাসা ও শান্তির মালিক আল্লাহ। তার কাছেই ভিক্ষা চাইতে হয়, তার কাছেই আবেদন করতে হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, দোয়া কবুলকারী...

আমার নারী, আমাদের নারী ও নারীমুক্তি

​​বেগম রোকেয়া 'জাগো গো ভগিনি' বলে ডাক দিয়েছিলেন ঠিকই। সত্যিকার অর্থে আমাদের বোনেরা জাগেননি। আরো পিছিয়েছেন। অন্তরমহলে বন্দী ছিলেন, তারা এখন পুরুষের লোলুপতায়  বন্দী হয়েছেন। ক্যামেরার সামনে নিজেদেরকে মেলে দেয়ার অদৃশ্য কারাগারে তারা বন্দী করেছে নিজেদেরকে। চেনা-অচেনা পুরুষের কাছে শরীর আর রূপের প্রশংসা শোনার জালে বন্দী করেছে নিজেদেরকে। কর্মজীবী হতে চেয়ে নিজেদেরকে দিনরাত পুরুষ করতে চেয়েছে নারী, অথচ পুরুষ কিন্তু নারীত্ব চায়নি।

নারীমুক্তি হতে পারতো বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতির মাধ্যমে। বেগম রোকেয়া এটাই আহবান করেছিলেন যেন মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্ত হয় নারী। বাংলার নারীরা মানসিক মুক্তি পায়নি কয়েকশত বর্ষ পেরিয়ে গেলেও। থাক সে কথা...

অনলাইনে নারীদেরকে নিজেদের মুক্তি করতে বাংলাদেশের নারীদের জন্য সত্যিকারের ইন্টেলেকচুয়াল প্ল্যাটফর্ম নেই বলেই মনে হয়ছে। বোনেরা যতই নারী নিয়ে লিখতে যান, তারা পুরুষবিদ্বেষী লেখা লিখে বসেন। ফলে যা হবার তাই হয়, পুরুষ আরো তাতিয়ে উঠে, কাজের কাজ হয় না। আমি মুখ্যু মানুষ, অনুরোধ রাখবো পুরুষবিদ্বেষ ফ্রেমে না আটকে থেকে আমাদের বোনেরা ও ভাইয়েরা নারী নিয়ে লিখতে গিয়ে আমাদেরকে চমকৃত করবেন এমন সব আয়োজনে যেখানে নারী ও পুরুষ যে একে অপরের পরিপূরক সেই শিক্ষাটা পাওয়া যায়।

আমার মনে হইসে, আমাদের অনেক বেশি অভাব আত্মিক উন্নয়নের, অনেক বেশি অভাব জ্ঞানের। তা পুরুষ হোক, অথবা নারীরই হোক। কেউ নিজেদেরকে নিয়ে তেমন ভাবতে চায় না, অপ্রাপ্তির হিসেব করলে কোনদিন প্রাপ্তি একটা বাড়ে না, কেবল দুঃখ বাড়ে। আর এইরকম অজস্র অনায্য অভ্যাসে ভরা সংসারে পরিবর্তনের জন্য লাগবে অন্তর থেকে পরিবর্তন, প্রথা আর চিন্তাধারার পরিবর্তন।

নারীর উন্নতির জন্য পুরুষের সাহায্য দরকার, পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো দরকার। নারীর 'সমান অধিকার' নামক বিচিত্র শব্দ থেকে বেরিয়ে এসে 'প্রয়োজনীয় অধিকার' অর্জন করা উচিত। মা হতে পারেনা পুরুষ, কোমলতা আর ভালোবাসার দৃষ্টান্ত দেখাতে নাম আসে না পুরুষের; দিনে-রাতে, যেখানে-সেখানে যেন-তেনভাবে কাজ করার যোগ্যতা নেই নারীর, শারীরিক ও মানসিক প্রবল চাপে পিষ্ট হয়ে একলা চলতে পারে না নারী...

হয়না তবু জোর করে হওয়ানোর এই অদ্ভুত চেষ্টার বোকামি করতে না গিয়ে নিজ নিজ কর্তব্য, দায়িত্ব ও ভালোবাসা বুঝে পেতে যতটুকু শ্রম দেয়া দরকার -- সেই জ্ঞানটুকু অর্জনে চেষ্টা করা উচিত পুরুষ এবং নারী উভয়েরই...

28 February 2014

যারা প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়ে দুঃখে ভুগছেন তাদের জন্য লেখা

অনেক ভাই এবং বোন ভুলে নানান প্রেমঘটিত বা হৃদয়ঘটিত সমস্যায় জড়িয়ে পড়ে। তাদের জীবনটা যন্ত্রণায় জর্জরিত হয়ে যায়। যারা বুঝেন তারা ভুল করেছেন, তাদের পিছু ছাড়েনা সেই স্মৃতি কিংবা সেই যন্ত্রণাগুলো। হয়ত তারা নিজেদেরকে খারাপ ভাবতে থাকেন বা মনে করেন যে তারা আর আগের মতন 'পবিত্র' নেই।

কারো কারো মনে হয়, আল্লাহ হয়ত তাকে আর মাফ করবেন না, তিনি হয়ত আর পবিত্র একজন জীবনসঙ্গী পাবেন না। অথচ যারা না বুঝে ভুল করে ফেলে এবং পরে ভুল বুঝতে পেরে তাওবা করে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন। আল্লাহর ক্ষমাশীলতা সম্পর্কে আমাদের ধারণা না থাকলে তখনই আমরা এরকম ভুল চিন্তা করতে থাকি...

যারা ভুল করে ফেলে, তাদের উচিত তাওবা করে আল্লাহর পথে ফিরে আসা। ভুলগুলোকে ঢেকে ফেলে উত্তম কাজ। তাই আমাদের উচিত ইসলামকে শেখার কাছে নিয়োগ করা নিজেকে, আল্লাহর দ্বীনের পথে সময় ব্যয় করা, নামাজে নিয়মিত হওয়া, কুরআন পড়া। ইসলামের পথে অন্যদেরকে ডাকা। মানুষের উপকার করা উচিত, সাদাকাহ করা উচিত।

আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে চাইতে হয়। পবিত্র জীবনসঙ্গীও দোয়া করে চাইতে হয়। আল্লাহ সমস্তু দোয়া শোনেন। পবিত্রসঙ্গী পাওয়ার সৌভাগ্য যার হয়, তিনিই বুঝেন এটা কতবড় এক প্রাপ্তি, কত বড় এক নিয়ামাত। এই বিশাল পুরষ্কার পেতে হলে আল্লাহর কাছে শেষরাতে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা উচিত, আল্লাহর কাছে অনেক দোয়া করে কান্নাকাটি করা উচিত।

আল্লাহ আমাদের ভাইবোনদেরকে ভুল থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দিন, ভুল বুঝে ফিরে তাওবা করে দ্বীনে আত্মনিয়োগ করা উচিত। আল্লাহ আমাদের জীবনকে কবুল করুন।

23 February 2014

ওয়েডিং ফটোগ্রাফি এবং একটি এক্সট্রা

​​বোনেরা 'ওয়েডিং ফটোগ্রাফি' টাইপের পেইজগুলোতে যত কম ঘুরঘুর করবেন, আপনাদের মানসিক ও আত্মিক স্বাস্থ্য ততই ভালো থাকবে। ভাইদের তো ওইসব এলাকায় যাওয়া নিষিদ্ধ, তারপরেও গেলে, বোঝাপড়াটা আল্লাহর সাথেই করবেন :)

হে আমার বোন, নিজেকে প্রদর্শিত করার, লোকজনকে নিজের সৌন্দর্যে মুগ্ধ করাতে যেই আয়োজন তা রীতিমত অন্যায়। আপনার সৌন্দর্য কেবলই আপনার স্বামী জন্যই আয়োজিত হওয়া উচিত।

তাছাড়া, অর্থনৈতিক মন্দা সবখানে। ওয়েডিং ফটোগ্রাফির জন্য যে আয়োজন -- শাড়ি, গহনা, বিউটি-পার্লার, ফটোগ্রাফার এনে আপনার এই আয়োজনটা 'স্মৃতি' ধরে রাখার নামে অর্থের যথেচ্ছা ব্যবহার নয় কি? আপনি বরং অপচয় না করে এই সমাজের হাজার হাজার অভাবী মানুষের কারো জীবনকে সুন্দর করতে সাদাকাহ করে দিন। আল্লাহ আপনার এবং আপনার দাম্পত্য জীবনকে কল্যাণে ভরে দিবেন ইনশা আল্লাহ।

* *

হৃদয়ের ক্যামেরায় অডিও ভিজুয়াল রেকর্ডিং করুন
​​
বিয়েতে আর বিবাহিত জীবনে ডিয়েছেলার ক্যাম্রা (DSLR camera) দিয়ে আপনার আর আপনার বউয়ের রোমান্টিক টাইমগুলো লোকজনকে দেখিয়ে তাদের চোখের ক্ষুধা না মিটিয়ে

নিজের চোখের লেন্স দিয়ে, হৃদয়ের ক্যামেরায় অডিও ভিজুয়াল রেকর্ডিং করুন, বাকিটা জীবনে সুখস্মৃতি থাকুক সময়গুলো -- তাতে কারো ভাগ না থাকুক, আপনার মূহুর্তগুলো কেবলই আপনাদের থাকুক।

আল্লাহর বিধান মানুন, ভুল এড়িয়ে চলুন, পাপ এড়িয়ে চলুন, আফসোস এড়িয়ে চলুন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করুন।

* * * * *
কীরে! এখনো বিয়ে করিস নি কেন? দ্বীনদার মেয়ে খুঁজে পাস নি?
- একটা পেয়েছিলাম।
- বিয়ে করলি না কেন?
- সেও তো একটা দ্বীনদার ছেলে খুঁজছিল!!
এমন কথোপকথন তো আজকাল অনেকেরই জীবনের বাস্তবতা। এরকম যেন না হয়। আল্লাহ আমাদের আত্মার সাথী হিসেবে যাদের নির্ধারণ করে রেখেছেন, তাদের সাথে যেন তাড়াতাড়ি মিলিয়ে দেন।
[ কথোপকথনটি সংগৃহীত]

* *

সত্যিকারের শক্তিশালী পুরুষেরা জানে কীভাবে গাইর মাহরাম নারী থেকে দৃষ্টিকে অবনত করতে হয়।

22 February 2014

বিয়ের আলাপ যখন আগাতে থাকবে তখন ইস্তিখারা করুন

আমাদের উচিত আল্লাহর সাথে নিজেদের সম্পর্ককে গভীর করার চেষ্টা করা। বিয়ে এই ক্ষেত্রে একটা ভালো উপলক্ষ হতে পারে। আপনার বিয়ের আলাপ যখন আগাতে থাকবে, কিংবা আপনি যখন নিয়াত করছেন বিয়ের জন্য, আপনি নফল ইবাদাতের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।

আল্লাহর কাছেই সাহায্য চান, মানুষের কাছে না চেয়ে। আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টির মালিক, তার হাতেই সমস্ত সম্পদ। তিনি যদি আপনার জন্য কল্যাণ চান, তবে কেউ ঠেকাতে পারবে না। তিনি যদি না চান, তবে কেউ দিতে পারবে না। তাই আপনার সমস্ত চাওয়া হোক আল্লাহর কাছে।

নফল ইবাদাতের আগে তো ফরজ। যদি এমন হয়ে থাকে যে আপনার ফরজ ইবাদাতগুলোতে আপনি নিয়মিত নন, তবে শীঘ্রই নিয়মিত হোন। আল্লাহর কাছে বান্দা যেকোন সময়েই চাইতে পারে। তবে যারা তার আদেশকে মেনে চলে, তারা তার নিকটবর্তী। তাই নামাজে নিয়মিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

বিয়ের সময়টা হোক আপনার অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি আমলে পূর্ণ, বেশি ঈমানে পূর্ণ। আর এই বেশি বেশি জিনিসগুলো যেন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কেবল বৃদ্ধিই পায়। ঈমানে এবং আমলে আপনি আল্লাহর আরো নৈকট্য লাভ করুন। 


* * * * *
[২]

​ইস্তিখারা, বিয়ে হোক বা অন্য সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেই হোক, আল্লাহর কাছে চাওয়ার একটা অদ্ভুত ডাইমেনশান আছে। আপনি একটা বিষয় নিয়ে হয়ত চিন্তা করছেন কোন দিকে আগাবেন, কী করবেন --সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার উপায় বুঝতে পারছেন না। এমন অবস্থাতে পৃথিবীর প্রতিটা মানুষই পড়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে। কিন্তু মুসলমদের বিষয়টা আলাদা। সে আল্লাহর কাছে রাতের বেলা তাহাজ্জুদে কাঁদে আর বলতে থাকে আল্লাহ এই বিষয়ে যদি দুনিয়া ও আখিরাতে আমার কল্যাণ থাকতে তাহলে আমার জন্য একে সহজ করে দেন। আর যদি আপনি এতে আমার কল্যাণ মনে না করেন তাহলে একে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দেন...

বিষয়টা এমন না যে যা নিয়ে/যাকে নিয়ে আলাপ হচ্ছে সে/তা কম আকর্ষণীয় বা কম ভালো। বরং, আপনি দু'আ করবেন এতে আপনার জন্য কল্যাণময়তার জন্য। আর আল্লাহর কাছে এই দু'আ আপনি করবেন নামাজ পড়ে...  মনে রাখবেন, আপনাকে ক্রমাগত আল্লাহর কাছে ইস্তিখারার নামাজ আদায় করে দোয়া করতে থাকা উচিত। যদি আল্লাহ সব 'খাপে-খাপ' মিলিয়ে সহজ করে দিতে থাকেন, আপনার পছন্দ-অপছন্দ, সংশয় ছাপিয়ে কাজটা যেদিকে সহজ হয়, সেদিকেই পাল মেলে দেয়ার একটা ব্যাপার...  এভাবে হয়ত আপনি যা পাবেন, তাতেই আল্লাহ আপনার জন্য কল্যাণ রেখেছেন। আল্লাহ গায়েবের খবর জানেন, আমরা কিছুই জানিনা, আমরা কিছুই বুঝিনা।

অনেক সময় অনেক অনাকর্ষণীয় বস্তুর মোড়কে অনেক ভালো জিনিস থাকে, অনেক সময় তার বিপরীতটাও হয়। আল্লাহর উপরে নির্ভর যারা করে, তারা ইনশা আল্লাহ সহজ পথটর সন্ধান পাবে। এইটুকু হলো বান্দার উপলব্ধি...

স্কলারদের আলাপ পড়তে এই লিঙ্ক দেখুন :
http://learningdeen.wordpress.com/2012/07/22/istikhara/

আপনার কি মনে হয় না আপনার সঙ্গীটি এই মূহুর্তে কেমন আছেন?

​​আপনার কি মনে হয় না আপনার সঙ্গীটি এই মূহুর্তে কেমন আছেন? আল্লাহ আপনাকে এখনো হয়ত তার সাথে মিলিয়ে দেন নি। কিন্তু হয়ত এই শহরেই, অথবা এই দেশেই, অথবা এই পৃথিবীরই অন্য কোন প্রান্তে সে আপনারই মতন সময় পার করছে। হয়ত তার মনের আবেগ, স্বপ্ন-ভালোবাসার অনেক অনুভূতি সে আপনার জন্যই আপনার মত করেই জমা করে রাখছে... যেদিন আপনার সাথে নতুন সংসার শুরু হবে, সেদিন থেকে ধীরে ধীরে এই ভালোবাসার অনুভূতিগুলো আপনার জন্য ঢেলে দিবে... 

আপনি যেমন এই নোংরামির সংস্কৃতির নখরের আঁচড়ে আহত, তিনিও হয়ত। আপনার মত করে তার হৃদস্পন্দনেও আল্লাহর কথা স্মরণ করে, আপনার মতন করে তিনিও চাইছেন যেন আল্লাহ আপনাকে তার সাথে শীঘ্রই মিলিয়ে দেন। 

নিজেকে অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে দূরে রাখুন। অনাগত সেই মানুষটার জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আপনি অপেক্ষা করতে থাকুন। আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন আপনার জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনীকে আল্লাহ হেফাজত করেন, তার চরিত্রকে হেফাজত করেন। আল্লাহ যেন এমন কারো সাথেই আপনাকে মিলিয়ে দেন, যাকে তিনি ভালোবাসেন এবং যে আল্লাহকে ভালোবাসে। আল্লাহ যেন এমন মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার এবং জীবনসঙ্গী হবার তাওফিক আপনাকে দান করেন যিনি আল্লাহর ভালোবাসাপ্রাপ্ত। 

দোয়া অতি শক্তিশালী মাধ্যম। দোয়া বৃথা যায় না। আল্লাহ আপনাকে অবশ্যই অতি উত্তম বিনিময় দিবেন। হে আমার ভাই, হে আমার বোন, সুন্দর মানুষকে সঙ্গী পাওয়ার স্বপ্ন কখনো ছাড়বেন না। আল্লাহ চাইলে সেই মানুষটাকে আপনার দোয়ার উসিলায় আরো উন্নত আর তাকওয়াবান, পরহেজগার করে দিবেন। দোয়া করুন খুব বেশি করে, নিজের ভবিষ্যত মানুষটার জন্য দোয়া করে অর্জন করে নিন সুন্দর মানুষ। আর নিজেও হয়ে উঠুন তাকওয়াবান। 

যে বান্দা আল্লাহকে খুশি করতে ত্যাগ স্বীকার করে ও সবর করে, আল্লাহ তাকে এমন পুরষ্কার দান করেন যা বান্দার কল্পনার চেয়েও সুন্দর এবং সেই প্রাপ্তিতে সে সন্তুষ্ট হয়ে যায়। 

- সাওফয়ান

ভ্যালেন্টাইন ডে নামের ব্যভিচার ও বেহায়াপনা দিবসে আপনি যা করতে পারেন

ভ্যালেন্টাইন ডে নামের ব্যভিচার ও বেহায়াপনা দিবসে আপনি যা করতে পারেন:

- যেসব জায়াগাতে এইসব নির্লজ্জতা হতে থাকে, সেসব জায়গায় থাকলে আপনি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই নিঃশঙ্কোচে দূরে থাকা প্রথম কাজ। সম্ভব হলে বাইরে বের হবেন না বা ঐসব এলাকায় যাবেন না যেখানে কামের কেনাবেচা হয় বা উন্মুক্তভাবে নির্লজ্জতার প্রদর্শনী হয়।

- টেলিভিশন থেকে দূরে থাকুন। সমস্ত বাণিজ্যিক প্রোডাক্টই এখন মূলত কাম বিক্রি করে পণ্যের আগে। তাই তাদের প্রচারণাও হবে অসুস্থ ও জঘন্য। যতদিন এইসব সংস্কৃতি উলটে দিতে না পারছেন, দূরে থাকাই শ্রেয়।

- নিজেকে এবং পরিবারকে আগুণ থেকে বাঁচানোর নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ। তাই আপনার পরিবার পরিজনকে এইসব নিকৃষ্ট সংস্কৃতি থেকে রক্ষা করুন।

- প্রচুর দু'আ করুন আপনার জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনী এবং সন্তান-সন্ততিদের জন্য। বিশেষ করে যারা অবিবাহিত, আল্লাহর কাছে দু'আ করুন যেন আল্লাহ আপনার সঙ্গীটিকে এই নগ্নতা-বেহায়াপনার চারপাশ থেকে দূরে রাখেন।

- সারাক্ষণ আল্লাহকে স্মরণ করুন। আল্লাহর কাছে সাহায্য চান যেন তিনি আপনাকে রক্ষা করেন যাবতীয় অন্যায়-পাপাচার-কামাচারের হাত থেকে। আল্লাহ আপনাকে কেমন করে রক্ষা করবেন তা আপনি একসময় খেয়াল করে অবাক হয়ে যাবেন।

- ব্যাভিচারের ধারে-কাছেও না যেতে আদেশ দিয়েছেন আল্লাহ। গাইর-মাহরাম কারো সাথে আলাপ আপনার অন্তরকে গ্রাস করে ফেলতে পারে। আপনি তখন নামাজেও হয়ত কারো কথা স্মরণ করতে শুরু করতে পারেন। তাই, অন্তরকে কেবল আল্লাহর জন্যই রাখুন। অন্তরকে সুরক্ষিত রাখতে আপনার জন্য গাইর মাহরাম নারী অথবা পুরুষদের কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

- শয়তান মূলত সুঁই হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বের হয় অন্তরে, মনে। তাই নিজেকে কোন প্রকার ছাড় দিবেন না শয়তানের ওয়াসওয়াসা কানে ঢুকার জন্য।

- সবশেষে মনে রাখবেন। এইরকম নোংরামির সমাজে যারা নিজেদের চরিত্রকে সুরক্ষিত করে চলবে, আল্লাহ তাদের প্রতি তার রাহমাতের স্রোতধারা বইয়ে দিবেন। হয়ত এটুকু চেষ্টা আপনার হিদায়াতের কারণ হতে পারে। আল্লাহ আপনাকে চরিত্রবান জীবনসঙ্গী দান করবেন এবং আখিরাতেও আপনি সার্বিকভাবে মুক্তি লাভ করবেন। তাই ন্যুনতম চেষ্টাটুকু করে হলেও জাহান্নামের আগুণ থেকে দূরে থাকুন।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে রক্ষা করুন নির্লজ্জতা, বেহায়াপনা, পাপাচার, সীমালঙ্ঘন থেকে এবং আমাদেরকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করুন। আল্লাহ আমাদের উত্তম চরিত্র অর্জনের তাওফিক দান করুন যা তিনি ভালোবাসেন।

14 February 2014

বিলম্ব বিয়ের কারণে নষ্ট এই সমাজ?

​সরকারের 'ministry of women & children affairs' এইমাত্র মেসেজ কইরা জানালেন, মেয়েদের ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছর বয়সের আগে বিয়ে করা "Unlawful" এবং harmful তাদের "Physical & Mental Development"...

খুবই ভালো কথা !!

একই দিনে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে পালিত হচ্ছে 'ভ্যালেন্টাইন ডে' বা ব্যভিচার ও পাপাচার দিবস। সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগা দিয়েই এই পাপাচার ও নোংরামি দিবস পালিত হচ্ছে। এই বিষয় নিয়ে তো নির্বিকার সকলেই। উপযুক্ত Physical & Mental Development-এর বহির্প্রকাশ ১০ বছর ধরে প্রেম করে আত্মহত্যা, বিয়ের পরে পরকীয়া, ত্রিভুজ-চতুর্ভুজ-পঞ্চভুজ প্রেমের কাহিনীগুলো... এমন নোংরামি-নষ্টামির মতন হাজার হাজার ঘটনার সূত্রপাত হবে আজকেই। জ্বি, নিশ্চিত থাকুন, ১৪ ফেব্রুয়ারি,২০১৪ তারিখে নিদেনপক্ষে হাজার হাজার অন্যায় ও বেআইনী ঘটনার শুরু হচ্ছে!!

অথচ কোনদিন কেউ বলে নাই ছেলেদের ২১ এবং মেয়েদের ১৮ বছর বয়সের মধ্যেই বিয়ে দিয়ে দেয়া উচিত, আবশ্যক। তাহলে বলা যেত এইটা সুস্থ একটা বিশ্লেষণ এবং আহবান। আল্লাহর সৃষ্টি দুনিয়াতে আল্লাহর সৃষ্টি মানুষকে আল্লাহ এবং তার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেভাবে চলতে বলেছেন তার বিপরীত উপায়ে সব law তৈরি করে তাকে unlawful বললে যেসব development এর বাণী শোনানো হয়, তা নিঃসন্দেহে বাস্তবতাবিবর্জিত, অমানবিক এবং অপ্রীতিকর।

সমাজের মানুষের ভেতরে যেই ভালোবাসার হাহাকার, সম্পর্কের টানাপোড়েন, জিঘাংসা, ঘৃণা, অশান্তি, পাপাচার --সেগুলোর পিছনে পারিবারিক শান্তির প্রবল অভাব অন্যতম প্রধান কারণ। পরিবার সমাজের ক্ষুদ্রতম একক। পরিবারে মানুষের শান্তি নাই, সমাজে কই থেকে আসবে? বিয়ে ছেলেখেলা নয়। আমরা যাদের নিয়ে সমাজে চলি, তারা প্রতিটি পুরুষ ও মহিলাই একেকটি মানুষ। শৃংখলার বাইরে তাদের জীবন তাদের রক্তপিপাসু পশুদের চেয়ে নিকৃষ্ট করে দেয়।

আমরা মনে করি, বিয়ে নিষিদ্ধের বয়স নিয়ে হুড়পাড় না করে যদি বিয়েকে সহজ করা নিয়ে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হতো, তাহলে এই দেশ ও জাতি অনেক এগিয়ে যেতো। উন্নতি ও সুস্থতা আমরা সবাই-ই তো চাই!!

26 January 2014

ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আপনার বিয়ে হতে দেরি হচ্ছে? ধৈর্যহারা হয়ে পড়ছেন?

অনেক মুসলিমাহ বোন খুব চমৎকার; তারা দ্বীনদার, সত্যিকারের সুন্দর মন নিয়ে নিজেকে গড়ে তুলেন। সংসারের অনেক টানাপোড়েনেও নিজের প্রতি অত্যাচার না করে ধৈর্যধারণ করেন আর দ্বীনী জ্ঞানে ও কাজে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। অথচ এই সত্যিকারের অসাধারণ মেয়েটির বিয়ে নিয়ে সবখান থেকেই অনেক দুঃখজনক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় চেনাজানা 'আধুনিকা' মেয়ে যারা অনেক ছেলেদের সাথে সম্পর্ক রাখত, ভালো ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে যায়। অনেক সময় চোখের সামনেই দ্বীনদার এক ভাইয়ের কাছে এমন মেয়ের বিয়ে হয়ে যেতে দেখেন, যে হয়ত লুকিয়ে প্রেম করতো; একসময় বাবা-মা তার বিয়ের আয়োজন করলেন। এদিকে হয়ত বোনটির বয়স একটু একটু করে বেড়ে চলেছে, মনটাও কেমন যেন রাফ এন টাফ হয়ে যাচ্ছে...

একই ঘটনা অনেক দ্বীনদার ভাইয়ের ক্ষেত্রেও হয়। সবসময় চোখ নামিয়ে পথ চলেছেন। টিভি-মুভি নিয়ে নিজেকে ফিতনা থেকে বাঁচিয়ে চলেছেন। দ্বীনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। প্রেম করেননি যত ইচ্ছেই হোক, বরং তার অনাগত স্ত্রীর জন্যই নিজের আবেগগুলোকে জমিয়ে রেখেছেন। অথচ পড়া শেষ করে চাকুরি করে বিয়ে করতে হবে তার, পারিবারিক অর্থসংকটের কারণে। অথবা হয়ত একটা চাকরিও জুটিয়েছেন তবু আধুনিকা মেয়ে ছাড়া পর্দানশীন দ্বীনদার মেয়ে পাচ্ছেন না বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করেও। ধৈর্যহারা হয়ে পড়ার অবস্থা...

এমন ভাই ও বোনদের অবস্থা জানতে পেরে আমাদের নিজেদেরই খারাপ লাগে। আমরা জানি উত্তম চরিত্র কতটা কঠিন, কতটা অমূল্য, কতটা দারুণ ব্যাপার। আর সেই জিনিসটা অর্জন করতে একটা মানুষকে কতটা যুদ্ধ করতে হয় নিজের নফসের সাথে। তবে, যেই কষ্ট কেবল আল্লাহর জন্য, তার প্রতিটি মূহুর্তের উপহার আল্লাহ অবশ্যই বহুগুণে বাড়িয়ে দিবেন। তবে আমরা এটাও জানি, মুসলিম সমাজে এইরকম হবার কথা ছিলো না। ১৪৫০ বছর আগে যেই আদর্শ সমাজ গড়ে উঠেছিলো --তাতে বিয়ে ছিলো স্বাভাবিক, যেকোন যিনা ছিলো মৃত্যুসম আতঙ্কের বিষয়। তখন বিয়ের জন্য বসে থেকে বোনদের প্রোডাক্টিভিটি আর মন পচে যাওয়ার অবস্থা হতো না, ভাইয়েরাও দিনরাত কামের প্রচারণার সমাজে যুদ্ধ করতেন না। তারা তাদের গোটা মনোযোগটাই আল্লাহর দ্বীনের কাজে দিতেন। নিজের স্ত্রী কিংবা স্বামী ছাড়া অন্য কোন হারাম সম্পর্কের কথা ভাবতেও যেতেন না।

হ্যাঁ বোন, হ্যাঁ ভাই, আপনার কষ্ট লাগাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভেবে দেখুন, আমরা তো জানি আমাদের সময় ধীরে ধীরে কিয়ামতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা জানি ধীরে ধীরে এই সমাজ আরো অশ্লীলতার দিকেই যাবে, হত্যা-ফিতনা-ফাসাদের দিকে যাবে। আমরা তো এটাও জানি, এইরকম সমাজে আমাদের প্রতিটা ত্যাগ, প্রতিটা চেষ্টার মূল্য আল্লাহর কাছে অনেক হবে বেশি পাওয়া যাবে। ফিতনার সময়ে, কঠিন সময়ে যারা ঈমানকে রক্ষার জন্য কষ্ট করে, তাদের মর্যাদাই অন্যরকম। আমরা এটাও জানি, প্রতিটি মানুষকেই ঈমানের পরীক্ষা দিতে হবে। সেই পরীক্ষা সবার সবকিছুতে হয় না। আপনার হয়ত বিয়ে নিয়েই হচ্ছে।

আপনি তো জানেন, আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদেরকে বিপদে ফেলেন, ফলে তারা আরো বেশি করে আল্লাহর উপরে নির্ভর করে, কান্নাকাটি করে, ঈমানকে আরো উঁচুতে তুলে নেয়। আল্লাহ তাদের এর বিনিময়ে অনেক উচ্চ মর্যাদা দান করতে পারবেন আখিরাতে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আপনার প্রতিটা নিঃশ্বাসের খবর রাখেন হে প্রিয় ভাই, হে প্রিয় বোন। ধৈর্যহারা হবেন না। আল্লাহর জন্য এই জীবন, প্রশান্তচিত্তে ইবাদাত করে চলুন।

এই তো আর মাত্র অল্প ক'টা দিন। এই অবস্থা বদলে যাবে একদিন। আপনি সেদিন নিজের কাছেই ভালো ফিল করেবেন যে কঠিন সময়টাতেও আল্লাহ আপনাকে শক্ত থাকার, তাওয়াক্কুল করার সুযোগ দিয়েছিলেন আলহামদুলিল্লাহ। প্রাপ্তির আশা যার থাকে কেবল আল্লাহর কাছে, তার আর কীসের অপ্রাপ্তির যন্ত্রণা? যিনি সবর করছেন আল্লাহ তাকে পুরষ্কার দিবেন বলে, তার আবার কীসের না-পাওয়ার শঙ্কা? নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন ভাই ও এমন বোনদের বেহিসাব পুরষ্কার দিবেন; আমরা তো কেবল আল্লাহর কাছেই আশ্রয় চাই, সাহায্য চাই।

7 January 2014

প্রেমে ছ্যাকা খেয়ে আত্মহত্যার নিউজ চারিদিকে

সবাই শুধু অন্যদের মতন হইতে চায়। টিভিতে অ্যাডে, বিলবোর্ডে, নাটকে, সিনেমায়, মিউজিক ভিডিওতে, বন্ধুদের মধ্যে কত্তো প্রেম। সুতরাং, প্রেম করা তো আবশ্যক হয়ে যায়। আশেপাশে ছেলে/মেয়ে খুঁজে না পেলে জোর করে বের করা লাগে। এরপর কিছুমিছু আজেবাজে, মনখারাপ করা ঘটনা হয়। স্বাভাবিকভাবেই অন্ধ আবেগের ফল যা হয় -- দু'জনের মিলে না, এত কষ্টে পরিবার তাদের বড় করে, তারা মিলতে দেয় না।

অথবা একজনের চেয়ে আরেকজন বদ হয়, অমিল হয়। অন্যজনের জীবনের দাম থাকে না। ধুম করে মরার সিদ্ধান্ত। আরে ভাই, সবার জীবন একরকম তো না। সবাই কেন শুধু অন্যদের মতন হইতে চায়। তুমি কি জানো তোমার জীবনটা অনেক দামী ভাইয়া/আপু?  তুমি চাইলে কী না করতে পারো এই জীবনটা দিয়েই। কেউ নিজেদের প্রাণটা আরো অনেকের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে। অনেকেই অনেক রোগে ভুগেও বেঁচে থাকতে চাইছে -- তারা জীবনটার গুরুত্ব বুঝে।

ভালোবাসা অনেকভাবেই পাওয়া যায়। মা-বাবা, ভাইবোন, বন্ধু, স্যার/ম্যাডাম, পথের একজন ফেরিওয়ালা, দোকানী, ড্রাইভার -- সবার ভালোবাসাই অন্তরকে স্পর্শ করে। আর একটু ধৈর্য ধরলেই তুমি দেখবে একটা জীবনসঙ্গীও কয়েক বছর পর তোমার কাছে অধিকার নিয়ে আসবে, একসাথে পাড়ি দিবে দু'জনে অনেকদূর পথ।  মরে গেলে আর অনন্তকালের ক্ষমার পথ তো রুদ্ধ করে দিবে প্রিয় ভাই/আপু। এই ভুল করিয়ো না যেন।

-- সাফওয়ান
http://thesafwanism.blogspot.com

24 December 2013

জীবনসঙ্গীর জন্য দোয়া

​​
হে আল্লাহ আমাকে এমন একজন জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনী দান করুন যে,

আমার দ্বীনের অর্ধেক পরিপূর্ণ করবে,
যে হবে দ্বীনদার এবং আল্লাহভীরু,
যে আমাকে নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে,
যে অর্থ উপার্জন করবে হালাল উপায়ে,
যে কুরআন এবং হাদিস অনুযায়ী সব কাজ করার চেষ্টা করবে,
যে সুন্নাহকে তার নৈতিক শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করবে,
যে সবসময় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে তার পাশে যে ছেলেটি/মেয়েটি সঙ্গী হিসেবে আছে তার জন্য,
যে সবসময় তার রাগকে সংযত রাখার ব্যাপারে সচেতন থাকবে,
যে মাঝে মাঝেই রোজা রাখবে,
যে নামাজে নিয়মিত থাকবে,
যে হবে কোমল হৃদয়ের এবং দানশীল,
যে আমাকে সম্মান করবে এবং আমার খেয়াল রাখবে,
যে আমাকে এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে চলার পথে সদুপদেশ দিবে,
যে আমি তার সাথে থাকার সময়েও আমাকে তার হৃদয়ের ভালোবাসায় বন্দী করে রাখবে,
যে আমি তার সাথে না থাকলেও আমি তার হদয় থেকে একদমই দূরে যাবো না।

হে আল্লাহ, আমার এ দু'আ কবুল করুন, আমাদের সুন্দর পরিবার ও সমাজ দান করুন।


[ভাষান্তর ও পরিবর্ধন : সাফওয়ান]

23 December 2013

মেয়েদের ফিজিক্যালি অ্যাবিউজড হওয়া নিয়ে কিছু কথা

​​
​ঢাকা শহরে চলার ফাঁকে দেখবেন রিকসার হুড তুলে নোংরামি, ঝোপঝাড় পাওয়াই যায়না তবে পার্কে গাছ পেলে তার নিচে ছেলেমেয়েদের অননুমোদিত অন্তরঙ্গতার দৃশ্য, অথবা অকারণেই মেয়ে বান্ধবীর শরীর ঘুরে স্পর্শ করে যাওয়া ছেলেবন্ধুদের হাতগুলো যেখানে সেখানে-- এগুলো এই সমাজেরই দৃশ্য। এখন আপনি কান পাতলেও যেন শুনতে পাবেন ছেলেবন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হওয়া মেয়েদের মাঝে চাপা কান্না। ফিজিক্যালি অ্যাবিউজ হওয়া বেশ সাদামাটা ঘটনা হয়ে গেছে!

এসব ঘটনা নানান কারণে ঘটে। সব নিয়ে বলতে চাওয়া, ভাবতে যাওয়া সম্ভব নয় আমার। আমার একটা উপলব্ধি হলো, অজস্র ছেলেই সাধারণত মেয়েদের প্রতি অত্যন্ত হীন ধারণা পোষণ করে। ছেলেদের মাঝে মেয়েদের তুলনায় পর্নগ্রাফির আসক্তি অনেক বেশি। যেসব ছেলেরা গল্প-আড্ডায় মেয়েদের 'মাল' বলে, নায়িকাদের শরীরের আলাপ করে, তাদের চোখে মেয়েরা কমনীয় এক টুকরা মাংসপিন্ড। এরা সচরাচর মেয়েদের 'বন্ধু' হতে চেয়ে তাদের সাথে সময় দেয়।

মেয়েদের মাঝে নোংরা চিন্তাটা সচরাচর কম থাকলেও, সেখানে অন্য এক ঘটনা। নিজেকে আবৃতা রাখা, একটু কনজারভেটিভ থাকাকে পুরোনো মনে করে ছেলেদের কাছে 'ফ্রি' হতে পারা, ঘুরতে বের হওয়া ও ছেলেবন্ধু রাখা অনেকেই 'স্মার্টনেস' মনে করছে -- 'নারী স্বাধীনতা' মার্কা কথা বলা ভোগবাদী প্রচারণা ও নাটক-সিনেমা-সিরিয়ালের ফলে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনই কোমলমতি মেয়েদের করছে শরীরকেন্দ্রিক এবং উগ্র। সেই অল্প বন্ধুত্ব-আড্ডা দিয়ে শুরু হয়ে শরীর দিয়ে শেষ করে অনেক অনেক মেয়েই। কষ্টকর কথা হলো, এরা ভুল করে, ভুল করে ভুগে, এরাই চরমমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ভুগে তাদের পরিবার। এভাবে কামুক ছেলেদের কাছে 'ইউজড' হওয়াটার পেছনে একটা ছোট্ট ভুল চিন্তাই যেন অনেকক্ষেত্রে সূচনা করে দেয়।

শারীরিক সম্পর্ককে ডালভাত করে ফেলার বিষয়টা সচরাচর অল্পতে শুরু হয়। পাপ করতে করতে একসময় নিজেকে নিজের কাছে যখন অন্যায়কারী মনে হয়, তখন ছেলেমেয়েরা সব ভুলে স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়, কোথা থেকে কোথায় যায় টের পায়না। অথচ আল্লাহ বান্দা ভুল বুঝে পাহাড় সমান পাপ নিয়ে তাওবা করলেও তিনি তাকে ক্ষমা করবেন। ছেলেমেয়েদের উচিৎ তারা যে ভুলই করুক না কেন, তাওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। তিনি মাফ করলে তো পৃথিবীর মানুষদের কথা ভাবার কোন প্রয়োজন নেই। যারা পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাদের উপায় করে দেন। তবে নিঃসন্দেহে দুনিয়ার চেয়ে আখিরাত উত্তম স্থান। একটু হয়ত কষ্টই হবে পুরোনো জীবন ফেলে আসতে, কিন্তু তাদের ভবিষ্যত অনেক সুন্দর হবে ইনশাআল্লাহ।

আমরা সুন্দর ও পবিত্র সম্পর্কের সমাজের প্রত্যাশায় করি সবসময়...

-- সাফওয়ান

28 November 2013

ইয়ো পোলাপাইনের ফাস্টফুড

ফাস্টফুডের দোকানে হরেক রকমের খাবারের নাম দেখা যায়। উঠতি একদল আধুনিক হইতে চাওয়া ছেলেমেয়েরা *জাতে উঠতে* সেসব খাবারের আলাপ দিয়ে গল্প করে।

ধরেন এক ছ্যামড়া বা ছেমড়ি ভাত-ডাল দিয়ে দুপুরে খাইসে, সে হয়ত আলাপ করবে,

I had my lunch, plain steamed rice with lentil soup. শুইনা মনে হয় যেন ডাইনোসরের মাথা খাইসে। মোটা সাইজের আলুভাজির নাম 'ফ্রেঞ্চ ফ্রাই' মনে হয় যেন কি একখান জিনিস। আজব পাবলিকের আজব দুনিয়ার আজব ভাব।

যারা হুদাই স্মার্ট হইতে খাবার দাবারের আলাপ, ফাস্ট ফুডের দোকানের আলাপ আর বুটিক শপ বিলাইয়ের চোখ, ডঙ্গিশটি ইত্যাদি নাম দিয়ে ভাব নেয় -- এরকম কথা কাজে গিয়া আমাদের একমাত্র জীবনটাকে নষ্ট করতে চাই না।

আমরা ভুয়া ভাব নিয়ে বড় হতে চাইনা। আমরা মানুষের সাথে অন্তর দিয়া মিশতে ভাই, মুখ ভরা হাসিটা যেন হয় অকৃত্রিম, আসল সেটাই চাই। বন্ধুর সাথে ভাব নিয়ে, তার সাথে বড় হইতে চাইলে বন্ধুত্ব টিকে না। বন্ধুত্ব হয় বিশ্বাসে, পারস্পরিক সম্মান আর সহমর্মীতায়।

-- সাফওয়ান

10 November 2013

বাংলাদেশী মেয়েদের হট ছবি

শিরোনাম দেখে চমকে ওঠার কিছু নেই। আজকে আমার ব্যক্তিগত ব্লগের ট্রাফিক সোর্সে দেখলাম "বাংলাদেশী মেয়েদের হট ছবি" লিখে সার্চ দিয়ে কেউ এসেছেন। এসব লিখে সার্চ দেয়া হয়, সেই বিষয়টা জানতাম, প্রায় সবাই জানে তা। কিন্তু আমার ব্লগে এই সার্চ দেখে মেজাজ খারাপ হইসে। মানুষ বাংলাদেশী মেয়েদের হট ছবি দেখতে সার্চ করে ছবি দেখে মনের খায়েশ মিটাচ্ছেন। তাদের জন্যই আমার এই লেখা।

আমার ধারণা আমার এই লেখা যাদের চোখে এখন পড়বে বা হয়ত অনেক বছর পরে পড়বে তাদের কেউ না কেউ হলেও এইরকম কথা লিখে সার্চ দিয়েছেন। তাদের জন্য কিছু টিপ্স আমি আগেই লিখেছিলাম এই লেখাতে -- আপনি কি পর্নোগ্রাফির নেশায় আক্রান্ত??